অন্তিম শয্যায় রামগঞ্জ বিএনপি,হত্যাকারী স্বয়ং সভাপতি: পর্ব-১

0

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে বরাবরের মত অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।বরাবরের মত সবার দৃষ্টি ছিল এই নির্বাচনের দিকে।কারণ দেশের তৃণমূল পর্যায়ের সবচেয়ে উৎসবমুখর নির্বাচন হল এই ইউপি নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে বেশ উজ্জীবিত ছিল বিএনপির নেতাকরমীরা।সবার একটাই কথা ছিল যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার। একটি ইউনিয়নে,একটা জায়গায় একজন দলীয় প্রার্থী জিততে হলে অবশ্যই যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন মুখ্য।

কিন্তু হতাশ হলেও সত্য যে প্রার্থী মনোনয়নে যে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়ে মনোনয়ন দেয়ার কথা ছিল সেই আশায় গুড়েবালি দিয়েছে স্বয়ং বিএনপির কিছু পদধারী ও অর্থলিপ্সু নেতারা।

এরকম একটি ইউনিয়ন হল লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলা। রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপি একটি শক্তিশালী ঘাঁটি ফলে বিগত সকল জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ সকল নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জয় লাভ করে।কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন নিয়ে উড়ে এসে জুড়ে বসা জনাব নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ নির্বাচন করেন।নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নিকট আত্মীয় আওয়ামীলীগ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী ছিলেন।তারপরও বিএনপি নেতাকর্মীরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট করে নাজিম উদ্দিন আহম্মেদকে বিপুলভোটে এমপি নির্বাচিত করে।মোঃ শাহজাহান বর্তমান রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি।তার সাথে হাত মিলিয়ে নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ বিএনপির ঘাঁটি রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপি কিভাবে ধংস করতে থাকেন তার কিছু বর্ণনা নিম্নরূপে তুলে ধরা হল-

১. নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ২০০৮ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে তার অনুগত কিছু লোক দিয়ে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিএনপি ও সকল অঙ্গ সংগঠনের পকেট কমিটি গঠন করেন।

২. নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ এমপি হওয়ার পর থেকে সকল ইউনিয়ন,উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী প্রীতির কারণে বিএনপির কোন প্রার্থী জয়লাভ করে নি।

৩. ২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থী না দিয়ে বিএনপির দুইজন প্রার্থীকে মাঠে রেখে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করেন।

৪. নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ এমপি হওয়ার পর দুইবার উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য সর্বপ্রকার সহযোগীতা করেন।

৫. ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীকে পরাজিত করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সার্বিক সহযোগীতা ছাড়াও নগদ অর্থ প্রদান করেন। এমনকি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয়ের ব্যাপারে নাজিম উদ্দিন আহম্মেদের দুটি মোবাইল ও তার মনোনীত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বাহার এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ শাহজাহান ও আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমীনের সাথে বিরতিহীন ফোনালাপেরও প্রমান রয়েছে।

৬. ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী অবৈধ সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় মহাজোট প্রার্থীকে বিনা বাধায় নির্বাচিত করার লক্ষ্যে নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নির্বাচন বর্জন ও প্রতিরোধ করতে গিয়ে একজন নিহত ও বহু নেতাকর্মী আহত হন।উক্ত ঘটনায় প্রায় ৫৬ টি মামলা রুজু করে আনুমানিক ৫ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় অনেকে জেলে ও আত্মগোপনে আছেন।উক্ত বিষয়ে নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ কোনো সহযোগিতা করেন নি বরং মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা চাইলে বিরক্তির বেশে বলেন, ” আমি কি তোমাদের ভোট প্রতিহতের জন্য বলেছি?”

৭. নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে টিআর,কাবিখা,কাবিটা সহ সকল সরকারি দান,অনুদান একক সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে দিয়ে নিজ পক্ষে শক্তি সঞ্চয় করেন এবং বিএনপির সংগঠন প্রেমিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী শক্তি প্রয়োগ করেন।

৮. নাজিম উদ্দিন আহম্মেদের বিএনপি বিরোধী এরকম কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে নেতাকর্মীদেরকে যুবলীগ,ছাত্রলীগ দ্বারা নির্যাতন ও পুলিশি হয়রানি করেন।যার ফলে অধিকাংশ নেতাকর্মীরা নিরাপত্তাহীন হয়ে কেউ আত্মোগোপনে ও কেউ ঘরমুখী হয়ে গেছে।মূলত আওয়ামী লীগ থেকে আসার কারণে আওয়ামী প্রীতি ও যোগাযোগ দুটোই রয়ে গেছে।

৯. বিগত দুই পৌরসভা নির্বাচনে কারো সাথে আলাপ আলোচনা ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে নামেমাত্র প্রার্থী দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করেন এবং রামগঞ্জ বিএনপির দুর্গ হওয়া সত্ত্বেও জামানত হারায়।

১০. একই সময়ে রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির কমিটি অনুমোদন হলেও নাজিম উদ্দিন আহম্মেদের কার্যকলাপের প্রতিবাদ করা পৌর বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে তার আস্থাভাজন লোক দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন।কিন্তু এদিকে উপজেলা বিএনপির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও এখনও তা বহাল তবিয়তে আছে। এমনিভাবে রামগঞ্জ উপজেলার সকল ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে তার আস্থাভাজন লোক দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন।

______________________চলবে