অনুসন্ধানে পক্ষপাতীত্ব দুদকের,প্রভাবশালীদের এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ বরাবরের মত!

0

জিসাফো ডেস্কঃফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও প্রভাবশালীদের এড়িয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত, ব্যাংকটির নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীসহ ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের বিষয়ে তারা তৎপর থাকলেও সাবেক চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বিষয়ে নীরব।

অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন অনুযায়ী মাহবুবুল হক চিশতী আর মহীউদ্দীন খান আলমগীর জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। ব্যাংকটির গ্রাহকের ঋণের ভাগ নিয়েছেন তাঁরা। আর এর মাধ্যমে দুজনের নৈতিক স্খলন ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনাটি গত বছর থেকে অনুসন্ধান করছে দুদক। সে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মাহবুবুল হক চিশতী, তাঁর পরিবারের ৫ সদস্য, ব্যাংকের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে দুদক। কিন্তু এ তালিকায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নাম নেই।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে যখন তথ্য এসেছে, তখন তিনি ঘটনায় যুক্ত থাকলেও থাকতে পারেন। তাই একই ঘটনায় যুক্ত সবার বিষয়ে একই রকম ব্যবস্থা নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। তা না হলে দুদকের কাজ প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এর আগে বেসিক ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর নাম এলেও দুদকের করা ৬১ মামলার কোনোটিতেই বাচ্চুর নাম আসেনি। আসেনি পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্যের নাম। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে বাচ্চুকে কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সংস্থাটি।

গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, ফারমার্স ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ, নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের ঘটনা দুদকে অনুসন্ধান চলছে। অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সপরিবার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে দুদক বিশ্বস্ত সূত্রে জেনেছে। তাই তাঁদের বিদেশ যাওয়া বন্ধ করা প্রয়োজন। চিঠিতে প্রত্যেকের নাম-ঠিকানাসহ পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক মো. সামছুল আলমের পাঠানো চিঠিতে যাঁদের বিদেশ যাওয়া বন্ধ করার অনুরোধ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে মাহবুবুল হক চিশতী ছাড়াও রয়েছেন তাঁর স্ত্রী রুজী চিশতী, ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, মেয়ে রিমি চিশতী, ভাই মাজেদুল হক চিশতী, পুত্রবধূ ফারহানা আহমেদ। ব্যাংকারদের মধ্যে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম শামীম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মোতালেব পাটোয়ারী, এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ইভিপি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার, এসভিপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ভিপি মো. লুৎফুল হক ও মনিরুল হক, এফভিপি মো. তফাজ্জল হোসেন, এভিপি মো. শামসুল আলম ভূঁইয়া, এইও মাহবুব আহমেদ এবং ইও মো. জাকির হোসেন।

এ প্রসঙ্গে দুদকের মুখপাত্র ও সচিব শামসুল আরেফিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি খুদে বার্তা পাঠিয়ে আইন শাখার মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। আইন শাখার মহাপরিচালকের এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই এবং তিনি দুদকের মুখপাত্র নন জানিয়ে ফিরতি বার্তা পাঠানোর পর সচিব কোনো জবাব দেননি। আবারও ফোন করলে কেটে দেন।

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করা যায় না। তাই তাঁকে বাদ দিয়ে কিছু হলে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক। ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই যেন আংশিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে না হয়, সেটাই দেশবাসী আশা করে।

২০১২ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ফারমার্স ব্যাংক। শুরু থেকেই নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে ব্যাংকটি। সে কারণে নগদ অর্থের চরম সংকট দেখা দেয়। চরম সংকটে পড়ায় পদ ছাড়তে বাধ্য হন মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও মাহবুবুল হক চিশতী। পরিচালকের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তাঁরা। ব্যাংকের এমডি এ কে এম শামীমকেও অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।