অঘোষিত এক দলীয় শাসন ব্যবস্থায় তারা সরকার পরিচালনা করছে;মির্জা ফখরুল ইসলাম

0

জিসাফো ডেস্কঃ দেশে ‘গুম-খুন-ত্রাস’ সৃষ্টি করে সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালুর পায়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার সকালে দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাতা বার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধার্ঘ অপর্নের পর বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘‘ দেশে গুমের মধ্য দিয়ে, খুনের মধ্য দিয়ে, এাস সৃষ্টি করে, মিথ্যা মামলা দিয়ে গণতন্ত্রকে দাবিয়ে রেখে তারা চেষ্টা করছে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করবার। কিন্তু এই দেশের জনগন গণতন্ত্রকে ভালোবাসে, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, বুকের রক্ত দিয়েছে, এই গণতন্ত্রকে তারা ফিরিয়ে আনবেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।”

‘‘ আমরা বলতে চাই, বিএনপি সংগ্রাম করেছে ১/১১‘র অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে, বিএনপি সংগ্রাম করছে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে। ইনশাল্লাহ জনগনের স্বতস্ফূর্ত সমর্থনের মধ্য দিয়ে আমরা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্রকে পূনরুদ্ধার করবো এবং আজকের এই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আমাদের শপথ এটাই যে, গণতন্ত্রকে পূনরুদ্ধার না করা পর্যন্ত আমরা ঘরে কখনো ফিরে যাবো না।”

দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ আজ মানুষের সমস্ত মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে, মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। জগদ্দল পাথরের মতো এই সরকার ক্ষমতায় বসে আছে। অঘোষিত এক দলীয় শাসন ব্যবস্থায় তারা সরকার পরিচালনা করছে।”

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘ যথা সময়েই আপনারা সহায়ক সরকারের রূপরেখা পাবেন।”১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের অনুসারীদের এক মঞ্চে নিয়ে ‘জাতীয়তাবাদী দল’(বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।

চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকায় খালেদা জিয়া এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানের অনুপস্থিত থাকলেও দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাসহ কয়েক হাজার কর্মী উপস্থিত হন। সকাল ১০টায় শেরে বাংলা নগরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানকে নিয়ে মির্জা ফখরুল দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়ার কবরে ফাতেহা পাঠ ও পুস্পমাল্য অপর্ন করে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করেন।

এ সময়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, বরকত উল্লাহ বুলু, এজেড্এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, আবদুল মান্নান, আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, রুহুল কবির রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, কাজী মাজহারুল আনোয়ার, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, মীর সরফত আলী সপু, অঙ্গসংগঠনের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, কাজী আবুল বাশার, সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, হেলাল খান, শায়রুল কবির খান, আকরামুল হাসান, আনোয়ার হোসাইন, নুরুল ইসলাম নাসিম, হাফেজ আবদুল মালেক প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চন্দ্রিমা উদ্যানের মূল প্রবেশপথ পুলিশ সকাল থেকে বন্ধ করে দেয়। ফলে মিডিয়াসহ নেতা-কর্মীরা উদ্যোগের পেছনের সরু প্রবেশ পথ দিয়ে প্রবেশ করে।

‘কবর প্রাঙ্গনে প্রবেশের মূল পথে বাঁধা’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, ‘‘ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা নেতার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসেছি, আমাদেরকে প্রধান ফটক দিয়ে আসতে দেয়া হয়নি, প্রবেশপথ বন্ধ করে রেখেছে। আমাদেরকে পেছন পথ দিয়ে আসতে হয়েছে। এবংকি সাংবাদিকদের ভাইদেরকে পর্যন্ত এই রাস্তা দিয়ে আসতে দেয়া হয়নি।”

‘‘ প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করছে, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। হত্যা-গুম-খুনের মাধ্যমে নির্যাতনের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতকে তারা ধবংস করে দিচ্ছে।”

‘খালেদা জিয়ার আহবান’
দেশবাসীর প্রতি খালেদা জিয়ার ঈদের শুভেচ্ছার কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ চিকিৎসার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে আছেন। তিনি ঈদে প্রতিটি মানুষের কল্যাণ চেয়েছেন, যেন তারা ঈদে আনন্দ পরিবেশে আত্বীয়-স্বজন নিয়ে ঈদ করতে পারেন-এই কামনা করেছেন।”

‘‘ কোরবানী যে মূল বিষয়টা ত্যাগ, সেই ত্যাগ স্বীকারের জন্য তিনি জনগনকে আহবান জানিয়েছেন এবং এই ত্যাগের মধ্য দিয়ে ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারি-এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।”

‘রোহিঙ্গার ওপর সহিংস ঘটনা অমানবিক’
মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্টির ওপর নির্মমতাকে অমানবিক বলে এই ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘‘ আমরা মনে করি এই ঘটনা অমানবিক। মিয়ানমার সরকার এই জনগোষ্টির ওপরে তারা যে অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে- এটা গণহত্যার শামীল। আমরা মনে করি অবিলম্বে মিয়ারমান সরকারের এটা বন্ধ করা উচিৎ এবং রোহিঙ্গারা যারা চলে এসেছে এই এলাকায় তাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা উচিৎ।”

‘‘ সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ হবে এই একেবারে অসহায় নিরাপরাধ মানুষগুলোকে যেখানে তাদেরকে হত্যা করা হচ্ছে, তাদেরকে আশ্রয় দেয়ার জন্য।”